লাসুবন গিরিখাত — শ্রীমঙ্গলের গোপন রহস্য
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে, সিন্দুরখান ইউনিয়নের ঘন জঙ্গল আর পাহাড়ের আঁচলে লুকিয়ে আছে এক আশ্চর্য জায়গা লাসুবন গিরিখাত। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তের কাছাকাছি এই অঞ্চল যেন প্রকৃতির এক চুপচাপ গল্প বলে চলে হাজার বছর ধরে।
“লাসুবন”, খাসি ভাষায় যার মানে ‘পাহাড়ি ফুল’ ঠিক যেমন নির্জন, বুনো আর আপন খেয়ালে বিকশিত। যদিও সরকারি নথিতে একে লাসুবন গিরিখাত বলা হয়, স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে এটি পরিচিত শ্রীমঙ্গল গিরিখাত নামে।


পাহাড়ি ছড়া আর পাথুরে প্রবাহের জাল বুনে গড়ে উঠেছে এই গিরিখাতের রাজত্ব। এর ভেতরে ঘুরতে গেলে দেখা মেলে তিনটি বড় গিরিখাতেরঃ-
🔹 ক্রেম ক্লু,
🔹 ক্রেম কেরি,
🔹 আর ক্রেম উল্কা।
প্রতিটা গিরিখাতের দৈর্ঘ্য কোথাও এক কিলোমিটার, কোথাও তার চেয়েও কম। কিন্তু সৌন্দর্যের সাথে সাথে এখানে আছে রোমাঞ্চ আর বিপদের হাতছানিও। কারণ নিচে নামার পরে হঠাৎ পাহাড়ি বৃষ্টির পানিতে মুহূর্তেই প্লাবিত হতে পারে গিরিখাত। কোনো কোনো জায়গায় খাড়া পাথরের দেয়াল উঠে গেছে কয়েকশ ফুট উঁচুতে, আর মসৃণ পাথরে পা ফসকে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কম নয়। এই গিরিখাতের পথ ধরে এগোতে হলে সঙ্গী হবে লাংগুলিয়া ছড়া একটি পাহাড়ি ছড়া যা ত্রিপুরার পাহাড় থেকে নেমে এসে বাংলাদেশের মাটি ছুঁয়েছে। তার আঁকাবাঁকা পথ মিশে গেছে শ্রীমঙ্গলের বিলাস ছড়ায়। পথে পথে জুড়ে আছে অসংখ্য ছোট বড় পাথুরে ছড়া, যা কখনো সরু গলি, কখনো প্রশস্ত পাথরের মাঠের মতো বিস্তৃত। সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো গিরিখাতের গভীরে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। শুধু শোনা যায় টুপটাপ করে জল পড়ার শব্দ। কখনোবা শূন্যতা আর পানির শব্দ মিলেমিশে তৈরি করে রহস্যের এক ভিন্ন জগৎ। স্থানীয়রা এই গা ছমছম করা গিরিখাতের গভীরতাকে ডাকে “উল্কা” নামে।
বর্ষায় পাহাড়ি ঝরনাগুলো নতুন প্রাণ পায়, আর গিরিখাতের বুক বেয়ে প্রবল স্রোতে নেমে আসে সাদা ফেনার জলের ধারা। সেই সময় এ গিরিখাত হয়ে ওঠে প্রকৃত রোমাঞ্চপ্রেমীদের জন্য এক অপরাজেয় অভিযান।
5,000
2 Days - 3 Nights